িপিএস এর নাম শোনেননি এমন কাওকে খুঁজে পাওয়া মনে হয় সম্ভব নয়। এটি এমন একটি প্রযুক্তি যা আমাদের জীবন যাপনের ধারা অকল্পনীয় ভাবে পাল্টে দিয়েছে। একটা ফোন কল করে পিজ্জা অডার করলে এখন তা একদম আপনার সঠিক অবস্থানে পৌঁছে যায়। কোনো রাস্তা বা গলি ভুলে গেলে বা চিনতে না পারলে কাওকে জিজ্ঞাস করার দরকার নেই, জিপিএস খুঁজে দেবে সব কিছু। কিন্তু আপনার মনে কি কখনো প্রশ্ন জেগেছে যে এই প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে? কীভাবে আপনাকে আপনার নির্ভুল অবস্থান জানাতে সক্ষম হয়? তো চলুন আজ সহজ বাংলা ভাষায় সব কিছু জেনে নেওয়ার চেষ্টা করা যাক।

আপনার ভালো লাগতে পারে

জিপিএস (GPS) এর ইতিহাস

জিপিএস

বন্ধুরা, জিপিএস (GPS) এর পুরা নাম হলো Global Positioning System। এটি এমন একটি প্রযুক্তি যার মাধ্যমে মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ ইত্যাদির ন্যাভিগেশন ইউনিট এর মাধ্যমে নিজের অবস্থান এর খোঁজ অনেক সহজেই করা যায়। এটি প্রথম শুরু হয়েছিলো ১৯৭০-১৯৮০ সাল এর মাঝে, যখন ইউএস এয়ারফোর্স কিছু GPS স্যাটালাইট চালু করেছিলো আর্মি ন্যাভিগেশন প্রসঙ্গে। কিন্তু ১৯৮৩ সালে যখন রাশিয়া একটি বেসামরিক বিমানকে হামলা করে ধংস করে দেয়, কেনোনা বিমানটি ভুল করে তাদের অঞ্চলে ঢুকে পরেছিল, তখন ইউএস সরকার সিদ্ধান্ত নিলেন যে GPS সাধারন জনগণের জন্যেও প্রাপ্তি করা হবে এবং সকল বিমানে এই সুবিধাটি লাগানো হবে ন্যাভিগেশন এর জন্য।

এর ঠিক ১২ বছর পরে অনেক কঠোর পরিশ্রম এর পর ১৯৯৫ সালে আমজনতার জন্য প্রথমবার GPS চালু করা হয়। কিন্তু তখনকার সময় এই প্রযুক্তি এতোটা নির্ভুল ছিলোনা। তখন শুধু নিজের অবস্থানের হালকা আন্দাজা করা যেতো। এবং সামনে গিয়ে ২০০০ সালে পুরোপুরি ভাবে জনতার জন্য GPS চালু করে দেওয়া হয়। এর পরে ২০০৫ থেকে ২০১৫ এর মধ্যে ইউএস এয়ারফোর্স মোটামুটি ৫০ টির মতো GPS স্যাটালাইট চালু করেছে। এই জন্য আজকের দিনের GPS প্রযুক্তি অনেক বেশি শক্তিশালী এবং আপনার একদম সঠিক অবস্থান নির্ণয় করতে সক্ষম।

জিপিএস কীভাবে কাজ করে?

জিপিএস

চলুন এবার জেনে নেয়া যাক এই প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে তার প্রসঙ্গে। দেখুন, পৃথিবীর উপর অনেকগুলো স্যাটালাইট স্থাপন করা আছে এবং এরা পৃথিবীর চারিদিকে অবিরাম চক্কর কাটিয়ে চলছে। এখন এই প্রত্যেকটি স্যাটালাইটে একটি অ্যাটমিক ক্লোক লাগানো থাকে। এখন এই অ্যাটমিক ক্লোক কি? দেখুন অ্যাটমিক ক্লোক এমন একটি ঘড়ি যা ১ কোটি বছর পরও ঠিক সময় ধরে রাখতে সক্ষম, ১ সেকেন্ড বা ১ মিলিসেকেন্ড এরও সময় এদিক ওদিক হয়না কখনো। এই অবস্থায় এই স্যাটালাইট গুলো অবিরাম পৃথিবীতে সিগন্যাল পাঠাতে থাকে। এবং কোন সিগন্যাল কখন পাঠানো হয় তার সাথে একটি টাইমও সেট করে পাঠিয়ে দেয়া হয় স্যাটালাইট থেকে। এবং যে সিগন্যাল ছাড়া হয় এর গতি হয় প্রতি মিনিটে ৫০ বাইটস। অর্থাৎ এটি অনেক ছোট এবং অনেক দুর্বল একটি সিগন্যাল হয়।

এখন আপনার মোবাইল ফোনে লাগানো থাকে একটি জিপিএস রিসিভার, GPS ট্রান্সমিটার কিন্তু থাকে না। এখন এই রিসিভার চেষ্টা করে বেশি বেশি করে স্যাটালাইট এর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে এবং বেশি বেশি সিগন্যাল রিসিভ করতে। যদি আপনার মোবাইলফোন কিংবা GPS ইউনিট ৩ টি স্যাটালাইট এর সাথে সম্পর্ক স্থাপনে সফল হয়ে যায় তবে এটি অনেক সহজেই আপনার সঠিক অবস্থান নির্ণয় করতে সক্ষম হয়ে যায়। যখন আপনার ফোন স্যাটালাইট সিগন্যাল রিসিভ করে তখন সে জানে যে কখন সেই সিগন্যালটি পাঠানো হয়েছিলো, কোন স্যাটালাইট থেকে সিগন্যালটি এসেছিলো এবং স্যাটালাইট টির অবস্থান কোথায়। এসব তথ্য থেকে নিজের অবস্থান এবং সময় বিয়োগ করে আপনার ফোনটি আপনাকে সঠিক অবস্থান জানিয়ে দেয়। যদি ৪ টি স্যাটালাইট সম্পর্ক কোনো GPS ইউনিট স্থাপন করতে সক্ষম হয় তবে এটি সমুদ্রতল থেকে আপনার অবস্থানের উচ্চতাও মাপতে সক্ষম হবে।

তো বন্ধুরা, এতো ছিল জিপিএস কীভাবে কাজ করে তার ব্যাখ্যা। কিন্তু আপনার ফোনের GPS তো আরো বেশি কাজ করে। আপনি যখন কোনো গাড়িতে বসে ফোনের GPS চালু করেন তখন সেখানে আপনার অবস্থানতো দেখাই বরং আপনার অবস্থানের পরিবর্তন এর সাথে সাথে GPS সেই পরিবর্তন লাইভ সো করে। এখন এটি কীভাবে করে? দেখুন এই অবস্থায় আপনার মোবাইলফোন এর ব্যাটারি অনেক বেশি পরিমানে খরচ হতে থাকে। কেনোনা আপনার ফোনটি বারবার নতুন সিগন্যাল রিসিভ করতে থাকে। এবং অনেক সময় নতুন নতুন স্যাটালাইট এর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের প্রয়োজন হয়। ফলে আপনার ফোনটির এর প্রাপ্ত তথ্য গুলো বারবার রি-ফ্রেস করে। ফলে বেশি ব্যাটারি শেষ হতে পারে। আপনি যতো গতিতে গাড়ি চালাবেন আপনার ফোনের চার্জও ততো তাড়াতাড়ি শেষ হবে। কেনোনা আপনার ফোনটি ততো তাড়াতাড়ি নতুন সিগন্যাল ধরার চেষ্টা করবে।

ইউএস এয়ারফোর্স এই প্রযুক্তির উপর কাজ করে চলছে, একে আরো বেশি শক্তিশালী করার জন্য, এবং যাতে অনেক কম ব্যাটারি খরচে GPS ব্যবহার করা যায় তার জন্য। এর সাথে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নও একটি প্রযুক্তির জন্য কাজ করছে যেটি GPS এর সাথে কাজ করে আরো দ্রুত অবস্থান নির্ণয় করতে সাহায্য করবে।

এ-জিপিএস (A-GPS) কি?

জিপিএস

এ-জিপিএস হলো জিপিএস এর সহযোগী, যেটাকে আমরা Assisted GPS বলে থাকি। এই পদ্ধতিতে আপনার মোবাইল নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে কিছু ডাটা ব্যয় করে সঠিক অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। আপনার ফোন যখন GPS সিগন্যাল অনুসন্ধান করে তখন এ-জিপিএস আপনার মোবাইল নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে শুধু সেই স্যাটালাইট গুলোকে নির্ধারণ করে যেগুলো আপনার অবস্থানের আশেপাশে থাকে। এবং এর সিগন্যাল গুলো দ্রুত থেকে দ্রুততর উপায়ে জিপিএস রিসিভারে পৌঁছানোর চেষ্টা করে।

গ্লোনাস (GLONASS)

GPS ছাড়াও অবস্থান নির্ণয়ের আরেকটি প্রযুক্তি রয়েছে, যার নাম হচ্ছে গ্লোনাস (GLONASS)। এটি একটি রাশিয়ান প্রযুক্তি। কিন্তু এই প্রযুক্তি এখনো এতোটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেনি। প্রায় প্রত্যেকটি স্মার্টফোনে আপনি GPS দেখতে পাবেন এবং এমন কিছু কিছু স্মার্টফোন আছে যেগুলোতে গ্লোনাস ও দেখতে পাওয়া যায়। যদি আপনার ফোনে গ্লোনাস প্রযুক্তি থাকে তবে আপনার দিগুন লাভ হবে। যদি আপনার ফোন GPS সিগন্যাল পেতে বার্থ হয় তবে গ্লোনাস এর মাধ্যমে আপনি আপনার সঠিক অবস্থান জানতে পারবেন। সামনের দিনে হয়তো এই প্রযুক্তিও আরো জনপ্রিয় করা সম্ভব হবে।

শেষ কথা

বন্ধুরা আশা করছি আপনারা এতক্ষণে GPS প্রযুক্তি সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেড়েছেন। এই প্রযুক্তি নিয়ে আপনাদের কারো যদি কোনো ধরনের প্রশ্ন থেকে থাকে তবে আমাকে টিউমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। আমার সত্যিই অনেক জানতে ইচ্ছা করে যে, নতুন নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানান পর আপনাদের মতামত কি রকম হয়!! টিউনটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন। শুধু মাত্র আপনার শেয়ার করার মাধ্যমেই এই সাইট টি এগিয়ে যেতে পারে।

Techubs

Posted by তাহমিদ বোরহান

প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।

2 Comments

  1. Shadiqul Islam RuposMarch 16, 2016 at 9:17 pm

    Very Very Informative POST. 100K LOVE AND like 🙂

    Reply

  2. it was an awesome article

    Reply

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *