পনার ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারে যদি এসএসডি (SSD) তথা সলিড স্টেট ড্রাইভ থেকে থাকে, তবে একটা জিনিস লক্ষ্য করবেন সেটা হল এটা যত বেশি ভরে যায়, এর গতি ও পারফর্মেন্স কিন্তু তুলনামূলক হারে কমতে থাকে। এসএসডি যখন সম্পূর্ণ পূর্ন হওয়ার প্রায় কাছাকাছি, তখন অ্যাপস চালু হতে দেরী, ফাইল কপি হতে দেরী হওয়ার মত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। সবচেয়ে খারাপ যেটি হয়, এসএসডি ড্রাইভটি ফ্রীজ হয়ে যায়, এতে করে ডিভাইস চালানো ভয়াবহ কষ্টসাধ্য হয়ে পরে।

এখন প্রশ্ন থাকতে পারে, এসএসডিও কি তাহলে দ্রুত নয়? উত্তরটি হল হ্যা,এটি প্রচলিত মেকানিকাল/ম্যাগনেটিক হার্ড ড্রাইভ থেকে অনেক দ্রুত। তবে হ্যা এই এসএসডি এর কিছু কন্ডিশন আছে, আর এই কন্ডিশন মানতে পারলেই – এসএসডি এর থেকে দ্রুত বর্তমানে কিছু নেই। যাই হোক,এই এসএসডি টেকনোলজির ভেতর ব্যবহৃত NAND ফ্লাশ স্টোরেজ কাজের ধরন এর কারনে কিছু পারফর্মেন্স সমস্যা পরিলক্ষিত হয়ে থাকে।

বেঞ্চমার্ক থেকে এটা স্পষ্ট- এসএসডি ধীরে ধীরে যত পূর্ন হবে, এটি তত স্লো হতে থাকবে। দিনে দিনে আপনি যতই এর সম্পূর্ন স্টোরেজ ক্যাপাসিটির নিকটবর্তী হবেন, এর পারফর্মেন্স ততই নিচের দিকে যাবে। আর একারনেই এসএসডি ড্রাইভ সম্পূর্ন পূরন না করা, এসএসডি ড্রাইভ ভালো রাখার অন্যতম একটি শর্ত। এসএসডি যত বেশি পূর্ন হবে, এর রিড-রাইট স্কিল ততবেশি কমের দিকে যাবে, এক পর্যায়ে কম্পিউটারকে স্লো বানিয়ে দেবে।

স্লো হয়ে যাওয়ার কারনঃ

যখন কোন নতুন ফাইল আপনি এসএসডিতে রাইট করেন, তখন এটি এই ড্রাইভের NAND ফ্লাশ ড্রাইভের ভেতর ফাকা ব্লক খুজতে শুরু করে এবং পেলেই তা পূরন করে ফেলে। আর এই এসএসডিতে কোন ফাইল রাইট করার সবচাইতে সহজ উপায় হল, ফাকা ব্লক খুজে বের করে, তা পূরন করে জায়গা দখল করে ফেলা। আর এভাবেই ব্লক দখলের মাধ্যমে কোন ফাইল এসএসডিতে স্হান পায়। উইন্ডোজ ৭ এবং এর পরবর্তী সংস্করন গুলিতে এসএসডি এর কথা মাথায় রেখেই একটি বিশেষ ফিচার বিদ্যমান, তা হল TRIM। যেটির মূল কাজ হল উইন্ডোজে যদি কোন ফাইল ডিলিট করা হয়, তবে সাথে সাথে এসএসডি থাকা সেই ফাইলটিও ডিলিট করে দেয়। আর মেকানিকাল বা ম্যাগনেটিক হার্ড ড্রাইভ থেকে এটি অন্যতম আলাদা একটি বৈশিষ্ঠ্য। যেখানে উইন্ডোজে কোন ফাইল ডিলিট করলে মেগনেটিক হার্ড ড্রাইভে তা কিছু সময় থেকেই যেত,এতে করে ডিলিটেড ফাইল ফিরে পাওয়ার অনেক সুযোগ থাকত।

এসএসডি স্লো

অন্যদিকে TRIM ফিচারটি এটা নিশ্চিত করে,উইন্ডোজে ব্যবহারকারী যে ফাইলটি ডিলিট করেছে, তা যেন সাথে সাথে এসএসডি থেলেও ডিলিট হয়ে যায়। এতে করে ব্লক ফাকা হয়ে যায় এবং নতুন ফাইল রাইট করার ক্ষমতা সৃষ্টি হয়। অলরেডি রাইটেড সেক্টরে আবার রাইট করা মেকানিকাল/ম্যাগনেটিক হার্ড ড্রাইভে সহজ হলেও, এসএসডি তে সম্ভব নয়। এখানে এসএসডিতে ব্লক ফাকা হওয়া না পর্যন্ত নতুন রাইট করা যায় না। তাই ব্লক ফাকা রাখা অবশ্য করনীয়।

তো এসএসডি ফাইলের চাপে পূর্ন হতে থাকে,আর এতে করে কম আরও কম ব্লক এভেইলেবল হতে থাকে। সলিড স্টেট ড্রাইভ পরিপূর্ণ এসব ব্লকের কারনে নতুন ফাইল রাইট করা যায় না। আর এডসব ভর্তি হয়ে যাওয়া ব্লকের কারনে এসএসডির রিড-রাইটে “এডিকশনাল ডিলে” তথা বিরতি সৃষ্টি হয়, এতে করে আপনি পান একটি স্লো পারর্ফমেন্স ওয়ালা কম্পিউটার।

আরো জানুন;

এর সমাধানঃ

এসএসডি ড্রাইভের এই সমস্যা দূর করার জন্য তৈরিকারক কোম্পানি প্রতিনিয়ত নানারকম গবেষনা করে যাচ্ছে। অনেক কোম্পানি তাদের এসএসডি ড্রাইভে টোটাল স্টোরেজের ভেতর প্রায় ৭% স্টোরেজ ব্যবহারকারীদের জন্য আনএভেইলেবল করে রাখে। এতে করে এসএসডি কখনই ফুল হয়ে যায় না, ৭% এর মত জায়গা তথা সম পরিমান ব্লক ফাকাই থেকে যায়। আর একে বলা হয় ওভারপ্রোভিশনিং (Overprovisioning)। এখানে এক্সট্রা স্টোরেজ হার্ডওয়্যার যুক্ত করা থাকে যা কম্পিউটারকে বুঝতে দেয় না, যে জায়গা ফাকা আছে।

আর প্রতিটি এসএসডিতে একটি গারবেজ কালেকশন অলগরিদম বিদ্যমান থাকে, এসএসডি ফুল হলে এটি প্রতিনিয়ত ব্লকগুলোর ভেতর অপ্রয়োজনীয় ফাইলগুলোকে খুজে করতে থাকে এবং তাদের অপসারন করে ব্লক ফ্রী করার কাজ করে যায়।

এসএসডি গতিশীল রাখার উপায়ঃ

এসএসডি যেমন মেকানিকাল হার্ড ড্রাইভ এর থেকে যথেষ্ঠ ফাস্ট, একইভাবে এটি ভরে যাওয়ার সাথে সাথে যথেষ্ট স্লো হয়ে যায়। আর এসএসডি কে ফাস্ট রাখার সবচেয়ে সেরা উপায় পুরোপুরি ভর্তি না রাখা। এসএসডি এর পারর্ফমেন্স ইসু থেকে রক্ষা পেতে, কখনই টোটাল ৭০% এর বেশি স্টোরেজ দখল করবেন না। যখন আপনার টোটাল স্টোরেজ এর ৭০% এর বেশি ব্যবহার করতে হচ্ছেই,তখনও সেকেন্ডারি একটি লার্জার ড্রাইভ ব্যবহার করুন। আপনি এসএসডি তে আপনার উইন্ডোজ ও প্রয়োজনীয় অ্যাপলিকেশন রেখে – বাকি সব ফাইল একটি ১-২ টেরাবাইট এর হার্ড ড্রাইভ / মেকানিকাল ড্রাইভে রাখতে পারেন।


আপনিও যদি এসএসডি নিয়ে এরকম সমস্যার মুখোমুখি হয়ে থাকেন, আশা করি সমাধান পেয়েছেন। ভালো লাগলে শেয়ার করবেন। নিচে আপনার মূল্যবান মতামত জানাতে ভুলবেন না।

ইমেজ ক্রেডিট; By Hadrian Via Shutterstock | By Ksander Via Shutterstock

Posted by তৌহিদুর রহমান মাহিন

কোন জ্ঞান অর্জন করে সেটা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার মধ্য দিয়েই সার্থকতা । আমি মোঃ তৌহিদুর রহমান মাহিন । ভালোবাসি প্রযুক্তিকে , আরও ভালোবাসি প্রযুক্তি সম্পর্কে বেশি বেশি জানতে- জানাতে । নিয়মিত মানসম্মত প্রযুক্তি বিষয়ক আর্টিকেল উপহার দেয়ার প্রত্যয়ে কাজ করছি টেকহাবস এর সাথে ।

10 Comments

  1. তৌহিদুর রহমান মাহিন ভাইয়া পোষ্টটি খুব ভালো হয়েছে। পরামর্শগুলোও ভালো এবং মনে রাখবো। উপকারী পোষ্ট। ধন্যবাদ ভাইয়া।

    Reply

    1. তৌহিদুর রহমান মাহিনNovember 15, 2017 at 11:23 am

      Welcome vai 🙂

      Reply

  2. Mantei hobe osadharon article likhen apni vaiya.

    Reply

    1. তৌহিদুর রহমান মাহিনNovember 15, 2017 at 11:22 am

      🙂 🙂

      Reply

  3. marattok kajer post share korsen dekhci. onek upokare asbe sobar. sathe ami onek kicu notun notun sikhte o jante parci. ekhon techubs a eto article publish hocce comment korte paray somoyer bapar hoye jacce. but always all article monojog sohokare pori bhai. Tahmid vai to best best best. but apni o best best best article likhen. jodi comment na kori er mane kintu ei noy ami article pori na. obossoi always techus er sathei royeci. subokamona roilo th team er jonno. go ahed brothers…

    Reply

    1. তৌহিদুর রহমান মাহিনNovember 15, 2017 at 11:20 am

      Sathe acen & thakben eta jani 🙂

      Reply

  4. আপনি ও দেখছি ভালো কম্পিউটার নিয়ে পোস্ট লিখছেন!! শুভকামনা!! অনেক ভালো হচ্ছে!! আরো চাই!!

    Reply

    1. তৌহিদুর রহমান মাহিনNovember 15, 2017 at 11:20 am

      ইনসাআল্লাহ

      Reply

  5. Shadiqul Islam RuposNovember 15, 2017 at 5:37 am

    upokarri post cilo. tnX via

    Reply

    1. তৌহিদুর রহমান মাহিনNovember 15, 2017 at 11:21 am

      Welcome stay tuned 🙂

      Reply

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *