সিডিএন কি? ক্লাউডফ্লেয়ার ফ্রী সিডিএন + ওয়ার্ডপ্রেস (কমপ্লিট সেটআপ গাইড!)

সবাই ফাস্ট লোডিং ওয়েবসাইট পছন্দ করে। শুধু আপনার ভিজিটর’রা নয়, বরং গুগল সহ আরো সকল সার্চ ইঞ্জিন‘রাও ফাস্ট লোডিং ওয়েবসাইটকে গ্রীন সিগন্যাল দিয়ে থাকে। আপনার হয়তো অনেক সুন্দর একটি ওয়েবসাইট রয়েছে, যেখানে হাই কোয়ালিটির ইমেজ ব্যবহার করেছেন, অনেক টেক্সট রয়েছে, যদি ওয়ার্ডপ্রেসে সাইট বানিয়ে থাকেন, তাহলে নিশ্চয় প্ল্যাগইন সেখানে ইন্সটল করে রেখেছেন! —কিন্তু আপনার সাইটের সাথে যতোবেশি কাজ করার চেষ্টা করবেন, সেটা লোড নিতে ততোবেশি দেরি করবে। আর আপনাকে ওয়েবসাইট ফাস্ট করার জন্য দরকার হবে ওয়েবসাইট অপটিমাইজেশন করার। যদিও ওয়েবসাইট স্পীড অপটিমাইজেশন করার অনেক পদ্ধতি রয়েছে, কিন্তু এই আর্টিকেলে আমি সিডিএন (CDN) (কন্টেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক) ব্যবহার করে ওয়েবসাইট অপটিমাইজেশন করা সম্পর্কে আলোচনা করবো। আর আপনার সাইটটি যদি ওয়ার্ডপ্রেসে তৈরি হয়, তো ফ্রী’তে আপনার সাইটের স্পীড খানিকটা বাড়িয়ে নিতে পারবেন, সাথে সেটআপ প্রসেসে একটুও গা ঘামাতে হবে না!

সিডিএন

সিডিএন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেতে গেলে, ওয়েব সার্ভার সম্পর্কে আর ইন্টারনেট সম্পর্কে হালকা আলোচনা করে নেওয়া উচিৎ। দেখুন, আপনি যে সাইট গুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভিজিট করেন সেগুলো কিন্তু ফিজিক্যালি পৃথিবীর কোন কোন না কোন ওয়েব সার্ভারে স্টোর থাকে। ওয়েব সার্ভার গুলো আপনার কম্পিউটারের মতোই কম্পিউটার হয় আর সেখানে বিশেষ সফটওয়্যার ইন্সটল করা থাকে। এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করে ঐ সার্ভার থেকে কোন পেজ আপনার কম্পিউটারে ডাউনলোড কিভাবে হয়?—কেনোনা ইন্টারনেটে সকল সার্ভার আর ক্লায়েন্ট কম্পিউটার গুলো একই কানেকশন সূত্রে বাঁধা থাকে।

সিডিএন

এখন ধরুন, আপনার নিজের একটি ওয়েবসাইট রয়েছে; এখন আপনি নিশ্চয় সেটাকে আপনার কম্পিউটারে হোস্ট করে রাখেন নি, অবশ্যই আপনি কোন ওয়েব হোস্টিং কোম্পানি থেকে সার্ভার ভাড়াতে নিয়ে সেখানে আপনার সাইটটি হোস্ট করেছেন। এখন আপনার ওয়েব সাইটের সার্ভার লোকেশন পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে হতে পারে, আচ্ছা চলুন ধরা যাক, আপনার ওয়েবসাইটের ফিজিক্যাল সার্ভার লোকেশন অ্যামেরিকাতে। অর্থাৎ, যখন কোন ভিজিটর আপনার সাইটের জন্য ব্রাউজারে রিকোয়েস্ট করে, তখন অ্যামেরিকা থেকে আপনার সাইটের পেজ ইথারনেট ক্যাবল বা ফাইবার অপটিক ক্যাবল বা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আলোর গতিতে ভ্রমন করে ভিজিটরের কম্পিউটার পর্যন্ত এসে পৌছায়।

যদিও আলোর গতি (১৮৬,০০০ মাইল/সেকেন্ড) অনেক বেশি কিন্তু সেটা তারপরেও লিমিটেড একটি গতি। বিজ্ঞানের অনুসারে কখনোই কোন সিগন্যাল বা কমিউনিকেশন সিস্টেম আলো চেয়ে অধিক গতিতে ভ্রমন করতে পারে না। আর যদি গতি লিমিটেড হয়, এর মানে ভিজিটর কম্পিউটার থেকে সার্ভার কম্পিউটার যতো দূরে হবে, পেজটি ইন্টারনেটে ভ্রমন করে এসে পৌছাতে ততোবেশি সময় লাগবে! এখন আপনার ওয়েব সার্ভার যেহেতু অ্যামেরিকাতে অবস্থিত, তো অবশ্যই অ্যামেরিকাতে আপনার সাইট দ্রুত লোড হবে, কিন্তু এশিয়া থেকে আপনার সাইট স্লো লোড হবে। কেনোনা এশিয়া পর্যন্ত আপনার সাইটের পেজ ভ্রমন করে আসতে অনেক সমুদ্র পার হতে হয়, সাথে অনেক টাইপের কানেকশনের মধ্য হয়ে তবেই আপনার পর্যন্ত পৌছাতে পারে। এখন হতে পারে আপনার সাইট অ্যামেরিকাতে রয়েছে, কিন্তু আপনি যদি বাংলা সাইট তৈরি করেন বা এশিয়াকে টার্গেট করে কোন সাইট তৈরি করেন, সেখানে অবশ্যই এশিয়ান ভিজিটর বেশি থাকবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই ফাস্ট পেজ লোড প্রদান করতে আপনাকে এশিয়ান কোন সার্ভারে সাইট হোস্ট করা বেস্ট হবে।

কিন্তু ধরুন, আপনার সাইটে অ্যামেরিকা থেকেও ভালো ভিজিটর আসে, এশিয়া থেকেও ভালো ভিজিটর আসে, আবার রাশিয়া থেকেও ভালো ভিজিটর আসে, তাহলে আপনি কি করবেন? —বন্ধু, এখানেই প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক বা সিডিএন এর। যখন আপনি আপনার সাইট কোন সিডিএন নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করে দেন, সেই নেটওয়ার্ক আপনার সাইটের ক্যাশ কপি কালেক্ট করে, আর পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে থাকা সিডিএন সার্ভারে সেগুলোকে জমা করে রাখে। এখন যদি কোন এশিয়ান ভিজিটর আপনার সাইট ভিজিট করতে চান, সেক্ষেত্রে তাকে এশিয়ায় অবস্থিত সিডিএন সার্ভার থেকে পেজ শো করানো হয়, অ্যামেরিকান ভিজিটরকে অ্যামেরিকান সার্ভার থেকে পেজ শো করা হয়। এভাবে যে লোকেশনের ভিজিটর তাকে সেই লোকেশন থেকেই পেজ সার্ভ করানো হয়, ফলে সাইট লোডিং অনেক ফাস্ট হয়ে যায়। ব্যাস, সিডিএন সম্পর্কে এই টুকু জ্ঞানই যথেষ্ট!

ক্লাউডফ্লেয়ার সিডিএন কি?

উপরের প্যারাগ্রাফ গুলো থেকে আপনি নিশ্চয় বুঝে গেছেন, সিডিএন কি এবং কিভাবে কাজ করে। আর যদি ক্লাউডফ্লেয়ার সিডিএন (CloudFlare CDN) নিয়ে কথা বলি, তো নামেই বুঝতে পাড়ছেন হয়তো, “ক্লাউডফ্লেয়ার” হচ্ছে এক সিডিএন সার্ভিস প্রভাইডার। এরা পৃথিবীর মধ্যে সিডিএন প্রভাইড করার সবচাইতে জনপ্রিয় সার্ভিস প্রভাইডার। এদের নানান দেশে সিডিএন সার্ভার রয়েছে, যেগুলো আপনার ওয়েবসাইট’কে রকেট পেজ লোডিং গতি প্রদান করতে যথেষ্ট।

আগেই বলে রাখছি, ক্লাউডফ্লেয়ার কিন্তু শুধুই সিডিএন নয়, বরং এর চেয়েও আরো অনেক কিছু। এরা ওয়েব সাইটের বিভিন্ন পারফর্মেন্স উন্নতি থেকে শুরু করে, সিডিএন, এবং ওয়েব সিকিউরিটি প্রদান করে থাকে। এদের ফ্রী এবং পেইড উভয় টাইপেরই সার্ভিস রয়েছে, যদিও ফ্রী সার্ভিস থেকেও আপনি অনেক কিছু করতে পারবেন, কিন্তু পেইড সার্ভিসে আপনাকে প্রদান করবে আরো উন্নত কিছু ফিচার। ক্লাউডফ্লেয়ার বর্তমানে যেকোনো সাইটের জন্য ফ্রী এসএসএল সার্টিফিকেট প্রদান করে থাকে, যদি আপনি গুগল ব্লগারে সাইট বানিয়ে থাকেন, তবে ক্লাউডফ্লেয়ার ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনার ডোমেইনকে এসএসএল সিকিউর করতে পারবেন।

আপনি কোন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আপনার সাইট তৈরি করেছেন সেটা ব্যাপার নয়, আপনি যেকোনো ওয়েবসাইটের জন্যই ক্লাউডফ্লেয়ার ব্যবহার করতে পারবেন। তবে যদি আপনার সাইট’টি ওয়ার্ডপ্রেসের উপর তৈরি করা হয়, তো নিঃসন্দেহে অনেক দ্রুত সময়ের মধ্যে আপনার সাইট’কে ক্লাউডফ্লেয়ারের জন্য রেডি করতে পারবেন। নিচের প্যারাগ্রাফ গুলোতে আপনি দেখাবো, কিভাবে আপনি আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের জন্য ক্লাউডফ্লেয়ার সিডিএন সেটআপ করে নেবেন। সম্পূর্ণ প্রসেসে ডুব মারার আগে আপনার কি কি অ্যাক্সেস লাগবে সে গুলোকে আগে জেনে নিন। প্রথমতো; অবশ্যই আপনার ডোমেইন নেম রেজিস্টারার কন্ট্রোল প্যানেলের অ্যাক্সেস থাকতে হবে, কেনোনা আপনাকে আপনার ডোমেইনটিকে ক্লাউডফ্লেয়ার নেম সার্ভারের দিকে পয়েন্ট করতে হবে।

অর্থাৎ ভিজিটরের রিকোয়েস্ট যাতে ক্লাউডফ্লেয়ার সিডিএন এর মধ্যদিয়ে যেতে পারে। দ্বিতীয়ত; আপনার ওয়ার্ডপ্রেস কন্ট্রোল প্যানেলের অ্যাক্সেস থাকতে হবে। —যদি এই দুই অ্যাক্সেস আপনার হাতে থাকে, তো চলুন এবার বাকি প্রসেস গুলোকে শুরু করা যাক…

#১ — ক্লাউডফ্লেয়ার অ্যাকাউন্ট তৈরি

প্রথমেই আপনাকে অফিশিয়াল ক্লাউডফ্লেয়ার ওয়েবসাইটে যেতে হবে এবং একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। সাইটের উপরের দিকে ডানপাশে একটি সাইন-আপ বাটন দেখতে পাবেন, যেটাতে ক্লিক করার মাধ্যমে একটি সাইন-আপ ফর্ম চলে আসবে, আর সেটাকে ফিল করার মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট সাইন-আপ করে নিন। এখানে অ্যাকাউন্ট সাইন-আপ করা একেবারেই সহজ, শুধু মেইল অ্যাড্রেস আর পাসওয়ার্ড প্রবেশ করিয়ে নিলেই হলো। যদি আপনার আগে থেকেই একটি অ্যাকাউন্ট ক্লাউডফ্লেয়ারে তৈরি করা থাকে, তো এই স্টেপটি স্কিপ করলেও চলবে।

#২ — ক্লাউডফ্লেয়ারে ডোমেইন যুক্ত করা

ইমেইল পাসওয়ার্ড প্রবেশ করিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করার সাথে সাথে আপনার কাছে ডোমেইন যুক্ত করার রিকোয়েস্ট করা হবে। এবার আপনাকে নিচের মতো ফাঁকা ঘরে আপনার ওয়েবসাইট ডোমাইন প্রবেশ করাতে হবে এবং স্ক্যান ডিএনএস রেকর্ড বাটনে ক্লিক করতে হবে। এখানে ক্লিক করার পরে ডিএনএস রেকর্ড স্ক্যান করতে কয়েক মিনিট সময় লাগতে পারে, তাই একটু ধৈর্য ধারণ করুণ।

#৩ — ডিএনএস রেকর্ড চেকিং

উপরের বর্ণিত স্ক্যান প্রসেস শেষ হয়ে যাওয়ার পরে, আপনার ডোমেইনের স্ক্যান রিপোর্ট এর তৃতীয় ধাপে দেখতে পাবেন। আপনি এখানে বিভিন্ন সাব-ডোমেইনের ক্ষেত্রে ক্লাউডফ্লেয়ার’কে এনাবল বা ডিসেবল করতে পারবেন। আমি রেকমেন্ড করবো, আপনার ন্যাকেড ডোমেইন নেম এবং WWW সাব-ডোমেইনের জন্য ক্লাউডফ্লেয়ার’কে এনাবল করে নিন। এতে আপনার সাইটের সরাসরি ডোমেইন এবং WWW যুক্ত ডোমেইনের ক্ষেত্রেও ক্লাউডফ্লেয়ার কাজ করবে। ডোমেইন সিলেক্ট করা হয়ে গেলে কান্টিনিউ বাটন ক্লিক করুণ। তবে হ্যাঁ, অবশ্যই চেক করে দেখুন, আপনার টার্গেট গুলো আপনার আসল সার্ভার আইপি অ্যাড্রেসে ঠিকঠাক মতো করা রয়েছে কিনা। যদি সার্ভার আইপি আলাদা হয়ে থাকে, “point to” এই ফাঁকা ঘর গুলোকে ক্লিক করে আইপি পরিবর্তন করে নিতে পারবেন।

#৪ — ডোমেইনকে ক্লাউডফ্লেয়ার নেম সার্ভারে পয়েন্ট

উপরের ধাপ সিলেক্ট করার পরে এই ধাপে এসে আপনাকে ক্লাউডফ্লেয়ার প্ল্যান নির্বাচন করার কথা বলা হবে। আপনি ফ্রী প্ল্যান নির্বাচন করুণ এবং কান্টিনিউ বাটন ক্লিক করুণ।

এবার আপনাকে ক্লাউডফ্লেয়ার নেম সার্ভার গুলো দেওয়া হবে, আপনার ডোমেইন রেজিস্টারার কন্ট্রোল প্যানেলে লগইন করুণ এবং আপনার ডোমেইন নেম সার্ভারকে ক্লাউডফ্লেয়ার নেম সার্ভারে রিপ্লেস করে নিন। উল্লেখ্য যে, এখানে বিভিন্ন ডোমাইন প্রভাইডারের কন্ট্রোল প্যানেল আলাদা আলাদা হয়ে থাকে। যদি আপনি নেম সার্ভার পরিবর্তন কিভাবে করবেন বুঝতে না পারেন, আপনার ডোমাইন প্রভাইডারের সাথে যোগাযোগ করুণ অথবা আমাকে নিচে কমেন্ট করেও আপনার সমস্যার কথা জানাতে পারেন।

এবং আবারো আরেকবার, কান্টিনিউ বাটন ক্লিক করুণ।

এই স্টেপ পর্যন্ত এসেছেন, মানে ৮০% কাজ শেষ, যদি ইতিমধ্যে আপনার ডোমেইন প্যানেল থেকে ক্লাউডফ্লেয়ারের দেওয়া নেম সার্ভারে পয়েন্ট করে নেন, তবে ১৫-২০ মিনিটের মধ্যেই ডোমেইন কাজ করতে আরম্ভ করে দেবে। অনেক সময় কিছুটা দেরিও লাগতে পারে, আপনি “Recheck Nameservers” বাটনটিতে ক্লিক করে চেক করতে পারেন ডোমেইনটি ক্লাউডফ্লেয়ারে অ্যাক্টিভ হয়েছে কিনা। যদি আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সাইট হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে নিচের স্টেপ গুলো অনুসরণ করতে হবে। যদি সাধারণ যেকোনো সাইট হয়, তো এখানেই কাজ শেষ, ক্লাউডফ্লেয়ার এতোক্ষণে কাজ করতে আরম্ভ করে দিয়েছে হয়তো। ওয়ার্ডপ্রেসের ক্ষেত্রেও যদি নিচের স্টেপ গুলো অনুসরণ না করেন, সেক্ষেত্রে ক্লাউডফ্লেয়ার কাজ করবে, কিন্তু নিচের সেটআপ গুলো করে নিলে, আপনার ওয়ার্ডপ্রেস প্যানেল থেকেই ক্লাউডফ্লেয়ার প্যানেল কন্ট্রোল করতে পারবেন এবং আরো কিছু আলাদা সুবিধা পেয়ে যাবেন।

#৫ — কনফিগার ওয়ার্ডপ্রেস

ক্লাউডফ্লেয়ারের জন্য ওয়ার্ডপ্রেস কনফিগ করা অনেক সহজ ব্যাপার, কেনোনা ওয়ার্ডপ্রেসের জন্য ক্লাউডফ্লেয়ারের রয়েছে ডেডিকেটেড প্লাগইন। এবার শুধু আপনার ওয়ার্ডপ্রেস কন্ট্রোল প্যানেল লগ-ইন করুণ আর ক্লাউডফপ্লেয়ার প্লাগইন ইন্সটল করে নিন। (প্লাগইন ইন্সটল করা সবাই জানেন, তাই এখানে আর বিস্তারিত কিছু বললাম না, যদি তারপরেও সমস্যা হয়, আমাকে নিচে কমেন্ট করুণ) প্লাগইন ইন্সটল করা কমপ্লিট হয়ে গেলে, প্লাগইনটি এবার কনফিগার করা প্রয়োজনীয় হবে। তাই ইন্সটল থাকা প্লাগইন লিস্ট থেকে ক্লাউডফপ্লেয়ার প্লাগইনটি খুঁজে বেড় করে সেটিং অপশনটিতে ক্লিক করুণ।

এবার আপনাকে ক্লাউডফপ্লেয়ার লগইন পেজে নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে আপনার কাছে ইমেইল অ্যাড্রেস আর এপিআই কী চাওয়া হবে। এপিআই কী পাওয়ার জন্য Get your API Key from here বাটনটিতে ক্লিক করতে হবে। আপনাকে এবার ক্লাউডফ্লেয়ার অ্যাকাউন্টে নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে আপনার এপিআই কী খুঁজে পাবেন। এপিআই কী পেয়ে যাওয়ার পরে, আপনার ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইন এ ইমেইল অ্যাড্রেস আর এপিআই কী প্রবেশ করিয়ে সেভ বাটনে ক্লিক করুণ।

এবার, আপনাকে প্লাগইনের আসল সেটিং পেজে ট্র্যান্সফার করে দেওয়া হবে, যেখানে আপনাকে ডিফল্ট সেটিং এর অপশন থেকে Apply বাটনটি ক্লিক করতে হবে।

আমি এখানে আপনাকে হাইলি রেকোমেন্ড করবো, Automatic Cache অপশনটিকে এনাবল করে নেওয়ার জন্য। জাস্ট এনাবল বাটনটিতে ক্লিক করলেই, সেটিংটি এনাবল হয়ে যাবে। ব্যাস আপনার ওয়েবসাইট এবার সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত হয়ে গেছে। অভিনন্দন আপনাকে! আপনার সাইটের লোডিং স্পীডে এখন অনেক পার্থক্য বুঝতে পারবেন। তবে সাথেই সাথেই কোন পারফর্মেন্স উন্নতি দেখতে পাবেন না, সিস্টেমকে একটু সময় দিতে হবে গুরুত্বপূর্ণ পেজ গুলো ক্যাশিং করবে, তারপরে হাই পারফর্মেন্স ক্যাশিং সার্ভার থেকে পেজ সার্ভ শুরু হয়ে যাবে।

ব্যাস, এভাবে অনেক সহজেই আপনি আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের জন্য ক্লাউডফ্লেয়ার সিডিএন এনাবল করে নিতে পারবেন। সিডিএন আপনার সাইটের ক্যাশকে বিভিন্ন লোকেশনের সার্ভারে স্টোর করে রাখে।

তবে আপনার সাইটটি যদি নিয়মিত বা অনেক বেশি আপডেট করে থাকেন, তবে সিডিএন ব্যবহার না করায় ভালো। কেনোনা এতে আপনার সাইট আপডেট হওয়ার পড়েও বিভিন্ন লোকেশনের ভিজিটর আপনার সাইটের পুরাতন ভার্সনই দেখতে পাবে। সেক্ষেত্রে আপনার ভিজিটর অনুসারে ঐ লোকেশনের সার্ভার নেওয়া বেশি উপযোগী হবে। যদি তারপরেও সিডিএন ব্যবহার করতে চান, অবশ্যই নতুন পোস্ট বা সাইট মডিফাই করার পরে ক্যাশ পরিষ্কার করে নিতে হবে।

ইমেজ ক্রেডিট; By Tashatuvango Via Shutterstock | Pixabay.Com

label, , , , ,

About the author

প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।

4 Comments

  1. Roni Ronit December 6, 2017 Reply
  2. Shadiqul Islam Rupos December 7, 2017 Reply
  3. Suvash December 7, 2017 Reply
  4. Salam Ratul December 7, 2017 Reply

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *